উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় সাড়ে ৫শ’ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি র্যাব সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে থাকবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান জানান, বৈশাখী উৎসবে লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। তিনি বলেন, “মহাস্থানগড়ে কোনোভাবেই মাদকসেবন বা মাদক বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আগে থেকেই মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, “মহাস্থানগড় একটি পুণ্যভূমি। এর পবিত্রতা রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ কোনো ধরনের মাদক সেবন ও বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মহাস্থান মাজার ও মসজিদ এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও মহাস্থানগড়ে জমে উঠবে বৈশাখী উৎসব। মেলা উপলক্ষে বসবে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। কটকটি, মিষ্টান্ন, খেলনা ও বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্যের কেনাবেচা বাড়বে কয়েকগুণ। দিন-রাত জুড়ে চলবে বাউল গান, মারুফতি, জারি-সারি ও আধ্যাত্মিক সংগীতের আসর।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে উৎসব হবে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ। ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবহ এবং লোকজ সংস্কৃতির মিলনমেলায় আবারও প্রাণ ফিরে পাবে হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ মহাস্থানগড়।