শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উজ্জ্বল । মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক মোন্তাজ আল ওরফে চ্যাংটু গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে সাঘাটার হাসিলকান্দি গ্রামে এই ধর্ষণ ঘটনা ঘটেছে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত চেংটু ও তার পরিবারের লোকজন আশেপাশেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।
মামলা জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে চেংটুর বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকার সুযোগে লম্পট চেংটু চাপড়া রুটি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ৪ বছরের ওই শিশুটিকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।শিশুটিকে অনেক সময় ধরে ঘরে দেখতে না পেয়ে তার মা তাকে খুঁজতে গিয়ে ডাক চিৎকার করতে থাকে। এসময় শিশুটি পাশের চেংটুর ঘরের ভিতর থেকে জবাব দেয়। সেইসাথে শিশুটি বলে তার বড় আব্বু তার সাথে খারাপ কি কি করতেছে।
মা শিশুটির কথা শুনে দ্রুত চেংটুর ঘরের দরজায় গেলে চেংটু দরজা খুলে দ্রুত জামা হাতে পালিয়ে যায়।
পরে শিশুটির এমন পরিস্থিতি দেখে ও তার মুখে শুনে সাথে সাথেই ধর্ষকের পুত্রবধুকে ডেকে দেখানোসহ আশে পাশের লোকদের মেয়ের ধর্ষণের স্থান ও শারিরীক অবস্থা দেখায়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও স্থানীয় কিছু লোক সঠিক বিচারের কথা বলে শিশুর মা ও দাদীকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।কিন্তু বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও কোনো বিচারের ব্যবস্থা না করায় অবশেষে শিশুটিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায় তার মা।
সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষন ঘটনায় ভর্তি দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে । শিশুটিকে তার মা গাইবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা গ্রহণ করতে থাকে।
অপরদিকে শিশুটির প্রতিবন্ধী পিতা জীবন জীবিকার তাগিদে বাহিরে থাকায় ও অসুস্থ কন্যাকে চিকিৎসায় মা ব্যস্ত থাকায় সাঘাটা থানা পুলিশ ধর্ষিতার চাচা জহুরুল ইসলামকে ডেকে এনে গত ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার একটি মামলা (নং ৮)নেয়।ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারা।ঘটনার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত চেংটুকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেংটুর পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনা সত্য, পুলিশি তদন্ত ও মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমেই এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত অফিসার এসআই উজ্জ্বল জানান, ৪ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে সর্বাত্বক অবস্থা চলমান। ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষণের মত এমন জঘন্যতম স্পর্শকাতর মামলার আসামী আটক না হওয়ায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।