এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাতে ঢাকা সিআইডির একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। তার নামে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মানি লন্ডারিং মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা পলাশবাড়ির শ্রী শ্রী কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে কয়েক ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে বাইরে আসতে বলেন। পরে মন্দিরের বাইরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে তোলা হয়। হরিদাসকে একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে আটক করেছে সিআইডি। মানি লন্ডারিং ছাড়াও হরিদাসের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারনা,ধর্মীয় উস্কানি, মন্দির,শশ্মান ও জমি দখল,রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মন্দির এলাকায় কোনো অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। মন্দির এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হোসেনপুরে বিশ্বের বৃহত্তম ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণকাজ নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি নির্মাণ কাজ স্থগিত করে। ওই সময় মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন, মতামত ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম খান। তিনি জানান, ঢাকা সিআইডি পুলিশের একটি দল গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তিনি জানান, গত ২০১৮ সালেও হরিদাস প্রতারনা মামলায় র্যাবের হাতে ও গ্রেফতার হয়েছিল।