হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি ৫০ শয্যার। বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সাড়ে চারশ। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী ২৫ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ার কারণে হাসপাতালেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। ফলে নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগীদের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের গাদাগাদি করে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। তারা মশারিও টানাচ্ছেন না। হাসপাতালে অবাধে রোগী ও স্বজনরা অবস্থান করছেন। হাসপাতালের চারদিকের পরিবেশ নোংরা। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধানগড়া থেকে আসা আজমল হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে বেড খালি না থাকায় বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি। কোনো সমস্যা হলে নার্সরা আসছে না।’
আরেক রোগী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছি। এটা সরকারি হাসপাতাল নাকি গোয়ালঘর—কিছুই বুঝছি না। এখানে ভালো মানুষ এলেই অসুস্থ হয়ে যাবে।’
রোগীর স্বজন আয়েশা আকতার বলেন, ‘আমার বাবার ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু এখানে আসার পর উনি বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাব?’
রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগী তুলনায় চিকিৎসক যথেষ্ট নয়। যারা কর্মরত আছেন তারাও ঠিকমতো রোগী দেখেন না। বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারি, ইএনটি (নাক কান গলা), অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেসিস্ট, চক্ষু, মেডিসন, চর্ম ও যৌন রোগের কোনো চিকিসক নেই। সহকারী সার্জন ২৮ জনের জায়গায় রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার আটজন থাকার কথা থাকলে রয়েছেন মাত্র একজন। অন্যান্য পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ বীণাপাণি গোলজার বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালে নতুন রোগীসহ ভর্তি পাঁচ শতাধিক। তাহলে কীভাবে শৃঙ্খলা থাকবে? শয্যা সংকটের কারণে রোগীরা করিডোর, বারান্দা ও ফ্লোরে শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মশারি থাকলেও টানানোর সুযোগ নেই। বেড ছাড়া রোগীদের মশারি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসিফ-উর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক স্যারের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। উনি হাসপাতালের সব বিষয়ে কথা বলবেন। আমি উনার চাপ নিতে পারব না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয় কিন্তু
তিনি ফোন রিসিভ করেননি।