পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহরের চাঁদনী বাজার এলাকায় বুধবার রাতে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রাখা মালামাল সরাতে সিটি করপোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একজন স্বেচ্ছাসেবক লাঞ্ছিত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখান থেকে সরে যান।
এর প্রতিবাদ ও ক্ষোভ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কাঁঠালতলা, সাতমাথা, স্টেশন রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে বগুড়া সদর ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বগুড়া সদর ট্রাফিকের প্রধান মো. সালেকুজ্জামান খান বলেন, যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করছে। দায়িত্ব পালনের সময় কিছু ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী বাধা দেন। পরে ব্যবসায়ী নেতা আলমগীর হোসেনের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে ব্যবসায়ীদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভিন্ন দাবি করে বলেন, বুধবার রাতে যারা অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তারা সিটি করপোরেশনের স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না এবং তাদের কারও পরনে ইউনিফর্মও ছিল না। ফলে কোনো স্বেচ্ছাসেবককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি জানান, আগামী রোববার সব ফল ব্যবসায়ীকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এর আগে আগামী তিন দিন কাঁঠালতলা, মাটিডালি, তিনমাথা, সাতমাথা ও স্টেশন রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে ফল বিক্রি বন্ধ রাখা হবে। বৈঠকের পর সিটি প্রশাসকের কাছে মানবিক বিবেচনায় ফল ব্যবসায়ীদের জন্য পুনর্বাসনের দাবি জানানো হবে।
আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, যানজটের জন্য শুধু ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীদের দায়ী করা ঠিক নয়। প্রকৃত হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মাইকিং করে একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেননি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও মালামাল জব্দ করা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. পপি খাতুন বলেন, নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যানজটমুক্ত, বাসযোগ্য নগর গড়তে এই অভিযান নিয়মিত চলবে। অবৈধ দখল ও অনিয়মের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং জীবিকার প্রশ্নে হকারদের অবস্থান—এই দুই বাস্তবতার সংঘাতে বগুড়া শহরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমাধান বের হয় কি না, সেদিকেই নজর নগরবাসীর।