কর্মচারীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই বদলির আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি; ফোন কেটে দেন।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলার পাঁচজন অফিস সহকারীকে একসঙ্গে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে সদরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী কাজী জামাল উদ্দিনও ছিলেন।
এর আগে ২৬ অক্টোবর তিনি বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ওই বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে পরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়।
ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী মো. ফরিদ আহমেদ তাঁর বদলির আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেন। রিটের নম্বর ২১৮১৭/২০২৫।
মো. ফরিদ আহমেদের দাবি, আদালতের আদেশে তাঁকে আগের কর্মস্থলে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। কারণ, তাঁর জায়গায় ইতিমধ্যে আরেকজন অফিস সহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলাম আমাকে বলেছিলেন, কাজী জামালের জায়গায় আমি যাব এবং আমার জায়গায় জামাল কাজী আসবেন। কিন্তু পরে আমাকে সালথা উপজেলা অফিসে বদলি করা হয়। তখন সদর অফিসে আমার কর্মদিবস আরও প্রায় দুই মাস ১০ দিন বাকি ছিল।
পরে আমি হাইকোর্টে রিট করি। আদালত আমার পক্ষে আদেশ দেওয়ার পরও একই পদে দুজন থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই পদে একই অফিসে দুজন কর্মচারী বহাল থাকা কীভাবে সম্ভব, সেটিই আমার প্রশ্ন।’
অন্যদিকে, বদলির আবেদন করা কাজী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আপনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত আছি।’
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন কর্মচারী বদলির আবেদন করার পর একই সঙ্গে আরও কয়েকজন অফিস সহকারীকে বদলি করার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদালতের আদেশের পরও যদি একই পদে একই কর্মস্থলে একাধিক কর্মচারী বহাল থাকেন, তাহলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বদলি আদেশ, আদালতের নির্দেশনা এবং বর্তমানে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।