সোমবার দুপুরে বগুড়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তানভীরের পক্ষে জামিন আবেদন করেন বগুড়া জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী।
জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, আদালতের আদেশে তারা সংক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হবে।
আইনজীবীর দাবি, মামলার ভিত্তি যে ফেসবুক পোস্ট, সেটি প্রকাশে ব্যবহৃত আইডি ও মুঠোফোন ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্দ করেছে। তার মতে, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পোস্টটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া এবং জামিন না দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলেও দাবি করেন তিনি।
রিমান্ড থেকে জামিন—আদালতের সিদ্ধান্তে নতুন মোড়
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই মাসুদুর রহমান গত ১০ আগস্ট তানভীরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ডপর্বের পরই জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তে এবারও স্বস্তি পেলেন না তানভীরের আইনজীবী।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরি পাড়ার একটি বাড়ি থেকে সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দলীয় অব্যাহতি নিয়েও প্রশ্ন
মামলার পাশাপাশি তানভীরের দলীয় অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী জানান, তানভীরকে দলীয়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের আগে মৌখিকভাবে দেওয়া তার ব্যাখ্যায় দলীয় নেতারা সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তানভীর বর্তমানে কারাগারে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত জবাব নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে লিখিত জবাবের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর দেওয়া অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহারের সুযোগ নেই বলেও জানান আইনজীবী।
একদিকে সাইবার মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে দলীয় অব্যাহতি এবং জামিন প্রশ্নে আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে ঘিরে বিষয়টি এখন আদালত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। উচ্চ আদালতে পরবর্তী জামিন আবেদনই হতে পারে এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।