দেশে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে ফেনী পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা।
বুধবার (০১ জুলাই) সকালে ফেনী পৌর প্রাঙ্গণে ফগার মেশিন দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অভিযানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ফেনীর উপ-পরিচালক ও ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা ও সেনেটারী ইন্সপেক্টর কৃষ্ণ ময় বনিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে প্রশাসক মো. দিদারুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে। ফেনী পৌর এলাকায় যেন ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনো ভাবেই বাড়তে না পারে, সেজন্য আজ থেকে এই ওষুধ ছিটানোর বিশেষ কার্যক্রম শুরু হলো। তবে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর জন্য পৌরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি নাগরিকদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকের বাসা-বাড়ি ও অফিসের আঙিনা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশারি লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। বিশেষ করে ছাদবাগান, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি যেন দুই দিনের বেশি না থাকে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। সচেতনতা বজায় রাখলেই এই অভিযানের শতভাগ সফলতা আসবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু মশার উৎস নিধনে মাসব্যাপী এই ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে দুই দিন করে এই কার্যক্রম চলবে।
ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা অভিযানের কারিগরী দিক তুলে ধরে জানান, এবারের অভিযানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ফগার মেশিন ব্যবহার করছে, যার ফলে খুব কম সময়ে অনেক বেশি এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সংকীর্ণ গলির ভেতরে ওষুধ ছড়ানোর জন্য হাতে বহনযোগ্য ফগার মেশিনও ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন একজন দক্ষ সুপারভাইজারের নেতৃত্বে ৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি এই নিধন অভিযানে অংশ নেবেন। প্রতিদিনের কার্যক্রমে ৩০ লিটার মশক নিধন ওষুধ, ৫০ লিটার ডিজেল এবং ১৫ লিটার অকটেন ব্যবহার করা হবে। পৌরসভাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে এই চিরুনি অভিযান নিয়মতান্ত্রিকভাবে মাসজুড়ে অব্যাহত থাকবে।