পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রেজানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, মোল্যা গ্রুপ ও ফারাজি গ্রুপ দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ১৩ জুন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়। পাশাপাশি ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন ভূক্তভোগে পরিবার। এসব ঘটনায় কালিয়া থানায় পৃথক ৮ মামলা করা হয়।
এরই মধ্যে আজ (১২ আগষ্ট) সকাল ৭ টার দিকে সাতবাড়িয়া পুরোনো বাজার এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে,বাজার শেষে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ার ফারাজির ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার খবর পেয়ে আনোয়ারের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর ও হামলা চালানো হয়। হামলায় আনোয়ার ফারাজিসহ অনন্ত ৭ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে এক জন অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়া তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।বাকিরা জন নড়াইল জেলা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা হায়দার মুন্সি বলেন, সকাল বেলা হঠাৎ শুনতে পাই আনোয়ার ফারাজির ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তাকে আমরা উদ্ধার করতে যাই। এসময় আগে থেকে উৎপেতে থাকা সাতবাড়িয়া গ্রামের আশিকুর মোল্যা,ইমরান ফারাজি,,শফিকুল ফারাজি,রাজিউল ফারাজি,জিহাদ মোল্যা,শান্ত ফকির
জাবেদ মোল্যা, রিফায়েত মোল্যা,টিটাব মোল্যা,হাফিজ ফকির সহ সংঘবদ্ধ এক দল আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় শান্তর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন আমাদের। হামলায় আনোয়ার ফারাজি, আব্দুল্লাহ ফারাজি,মনিরুল ফারাজি, আক্তার মোল্যা সহ কয়েক আহত হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলেছে বলে ও জানান তিনি।
এ ঘটনায় মোল্যা গ্রুপের রবিউল বলেন, প্রথমে মোল্যা গ্রুপ রকিবুল ফারজির বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় ফারাজি গ্রুপের লোকজন। তাদের করা হামলায় রকিবুল এবং তার স্ত্রী আহত হয়। রকিবুল ও তার স্ত্রীকে মারার পর আশিকুর মোল্যা ও ছোটন মোল্যার বাড়িতে হামলা চালায় ফারাজি গ্রুপ । তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের হামলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ৮ টি মামলা হয়েছে নিশ্চিত করে, কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। দুই পক্ষের একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। কিছু দিন ভাল ছিল। আজ হঠাৎ মারামারি হয়েছে। ঘটনাস্থলো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন এলাকার পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক আছে।