মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে এশিয়ান গেমসের অভিযান শেষ করেছে ঋতুপর্ণা চাকমা-তহুরা খাতুনদের দল। জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। জয় না এলেও বাংলাদেশের জন্য এই ড্রয়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আগের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত রক্ষণ অক্ষত রেখেই মাঠ ছাড়তে পেরেছে দলটি।
ম্যাচের আগে মিয়ানমারের বিপক্ষে কিছুটা আশাবাদী হওয়ার কারণ ছিল বাংলাদেশের। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কাজটি সহজ হবে না, তা জানা ছিল। তবু আগের দুই ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের কিছুটা প্রমাণের লক্ষ্যেই মাঠে নামে বাংলাদেশ।
শুরু থেকেই অবশ্য মিয়ানমার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২০ মিনিটে আরও একটি শট ব্লক করে দেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। বাংলাদেশও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক এবং ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শট অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়। শেষ দিকে মিয়ানমারের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকে। ৭৭ মিনিটে তাদের একটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। পরের মিনিটেই আরও দুটি শট বাংলাদেশের রক্ষণে আটকে যায়।
মিয়ানমারের একের পর এক কর্নারও অস্বস্তিতে ফেলছিল বাংলাদেশকে। আগের দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা রক্ষণ এবার শেষ পর্যন্ত নিজেদের জায়গা ধরে রাখে। গোলের সামনে রুপনার দৃঢ়তাও ছিল দলের জন্য বড় ভরসা।
বাংলাদেশও শেষ পর্যন্ত গোলের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ৮৫ মিনিটে কর্নার আদায় করে দলটি। এক মিনিট পর ঋতুপর্ণার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। সেখান থেকে আবার আক্রমণ গড়লেও অফসাইডের কারণে তা থেমে যায়।
শেষ বাঁশি পর্যন্ত মিয়ানমার চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি। বাংলাদেশও গোল করতে পারেনি। ফলে স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত থেকে যায় ০-০।
পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, বাংলাদেশ পুরোপুরি কোণঠাসা ছিল না। ৪৮ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল তাদের। তবে আক্রমণে ধার ছিল কম। পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের গোলমুখে মাত্র তিনটি শট নেয় বাংলাদেশ, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বিপরীতে মিয়ানমার আটটি শট নেয়, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। দুটিই রুখে দেন রুপনা।
তাই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায় গোলশূন্য স্কোরলাইন। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ০-১০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ০-৬ গোলে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে অন্তত প্রতিপক্ষের জাল অক্ষত রাখতে পেরেছে দলটি।
তবে এই ড্র কোয়ার্টার ফাইনালের পথ খুলতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচের পরই শেষ আটে ওঠার সরাসরি সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে পারলে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। গোলশূন্য ড্রয়ে সেটিও আর সম্ভব হয়নি।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অংশগ্রহণও শেষ হলো তিন ম্যাচে দুই হার ও এক ড্রয়ে। ২০২৩ সালের আসরেও একই ফল পেয়েছিল দলটি, যদিও সেবার তিন ম্যাচে ১৫ গোল হজম করেছিল।
এবারও শুরুটা ছিল হতাশার। তবে শেষ ম্যাচে অন্তত বাংলাদেশের জালে আর কোনো বল ঢোকেনি। এশিয়ান গেমসের পথচলা থেমেছে, কিন্তু শেষ ৯০ মিনিটে রক্ষণ সামলে বিদায় নিয়েছে দলটি।