গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শেষে মাবিয়া ডোপিং টেস্টে পজিটিভ হন। গেমস শুরুর আগে নেওয়া তার নমুনায় নিষিদ্ধ ডাইইউরেটিক্স পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি ওয়াদা কোড অনুযায়ী তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে মাবিয়াকে চিঠি পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে দুই বছরের জন্য দূরে সরে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষ এই ভারোত্তোলককে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া ওয়াদা কোড অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ বা দূষিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের কারণেও শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান শনাক্ত হতে পারে। ২৬ বছর বয়সি এই ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা মানে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়া। তবে আপিল প্রক্রিয়ায় রায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
২০১০ সালে মামার হাত ধরে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারোত্তোলনের সঙ্গে তার সখ্য। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনার গৌরব এনে দেন মাবিয়া। সেই জয় তাকে রাতারাতি পরিচিত করে তোলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। ২০১৯ এ নেপালের পোখারায় আবারও দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।