গত ৮ এপ্রিল ভোররাতে রিও ডি জেনিরোর অলিম্পিক পার্কে অবস্থিত ভেলোড্রোমটিতে আগুন লাগে। দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৮০ জন দমকলকর্মী ও ২০টি বিশেষায়িত যানবাহন মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘন কালো ধোঁয়ায় এলাকা ঢেকে ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনে মূলত স্টেডিয়ামের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যৌগিক উপাদান দিয়ে তৈরি ছিল। পুড়তে গিয়ে এই উপাদান গলে মাকড়সার জালের মতো আঁশ তৈরি করে, যা ঘটনাস্থলকে ভিন্ন এক দৃশ্য দেয়। তবে রেসট্র্যাকসহ ভেতরের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
রিও ডি জেনিরোর মেয়র এদুয়ার্দো কাভালিয়েরে নিশ্চিত করেছেন, স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষত রয়েছে। তবে পুনরায় ব্যবহারের আগে পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, গত আট বছরে এটি তৃতীয়বারের মতো অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঘটনা। ২০১৭ সালেও অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ঘটনা ঘটে একই স্থাপনায়। ফলে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আগুন লাগার কারণ এখনো নির্ণয় করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছাদের বাইরের কোনো অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
২০১৬ সালের সালের অলিম্পিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ছিল এই ভেলোড্রোম, যেখানে গ্রেট ব্রিটেন সাইক্লিং দল ছয়টি স্বর্ণপদক জিতেছিল। বর্তমানে এটি ব্রাজিলের সাইক্লিং ও ভারোত্তোলন দলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে একটি অলিম্পিক জাদুঘরও রয়েছে।
একই স্থানে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থাপনার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে ব্রাজিল জাতীয় দল অস্বাভাবিকভাবে এখন অস্বাভাবিকভাবে ‘শান্ত’। একসময়কার উচ্ছল অহংবোধ বা বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবনের চিত্র আর তেমন দেখা যায় না; বর্তমান দলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে শৃঙ্খলা ও দলীয় প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।