বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, সাধুহাটি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলী ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডল ও মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে ১৪-১৬ জনের বন্যপ্রাণী শিকারি দল আসে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে। এ সময় তারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতে। ছয়টি খরগোশ ফাঁদে আটকা পড়ার পর সেগুলো দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় এবং পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকিয়ে রাখা হয়। বন্যপ্রাণী খরগোশ শিকারের বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। তিনি বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন। বিকালে তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্প, বন বিভাগ ও স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ এর সদস্যরা কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে অভিযান চালিয়ে চার শিকারিকে আটক করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।
বিষয়টি সন্ধ্যার সময় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেন। এ সময় জীবিত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতাসহ স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।