শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ জুন দুপুরে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও হামলার শিকার হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্বামী ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সম্রাটের মা জোসনা বেগমকেও মারধর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, "সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
অন্যদিকে, বগুড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, সম্রাট হোসেন বাপ্পার মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ রোববার জানাজা শেষে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পারিবারিক জমি নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ এখন একটি প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নেওয়ায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে।