সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কাঁথুলী গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দেড় বিঘা জমিতে কলার বিশাল বাগান গড়ে তুলেছিলেন স্থানীয় কৃষক রজব আলী। দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বাগানের সব কলা আজ বৃহস্পতিবার কেটে বাজারে বিক্রির কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় পাইকারি ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দরদামও চূড়ান্ত হয়েছিল। আজ সকালে নগদ টাকা পরিশোধ করে ব্যবসায়ীদের কলা কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
ভুক্তভোগী কৃষক রজব আলী জানান, আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বাগানে গিয়ে দেখেন, রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্ত তার বাগানের প্রায় সবকটি ফলন্ত কলাগাছের কান্দি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও কেটে মাটিতে ফেলে নষ্ট করে রেখে গেছে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর পুরো বছরের কষ্ট ও উপার্জনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী কৃষক রজব আলী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে এই বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আজ ব্যবসায়ীদের কাছে কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু কারা যেন শত্রুতার জেরে রাতের অন্ধকারে আমার সব কলা কেটে নষ্ট করে দিল। আমি এখন পুরোপুরি সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে একজন কৃষকের ফসলের ওপর এমন অমানবিক ও বর্বরতায় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, কৃষকের সাথে কোনো বিরোধ থাকলে তা সামাজিকভাবে মেটানো যেত, কিন্তু এভাবে অবলা গাছের ফসল নষ্ট করা জঘন্য অপরাধ। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।