বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াজান স্পার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আঙ্গুরী বেগম গোসাইবাড়ী গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও ১০ নারী শ্রমিক নৌকাযোগে শানবান্ধা চরে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে যান। দুপুরের আগে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তারা দ্রুত বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ফেরার পথে বানিয়াজান স্পার এলাকায় পৌঁছালে আচমকা ঝড়ো হাওয়ায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
নৌকা ডুবে যাওয়ার পর নদীর স্রোতে নারী শ্রমিকরা ভেসে যেতে থাকেন। এসময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে। ভাটির দিকে ভেসে যাওয়া নয়জন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি আঙ্গুরী বেগমের।
বড়ইতলী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল বাবু জানান, ঘাস কেটে নৌকায় ফেরার সময় তিনি নদীতে কয়েকজন নারীকে ভেসে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিজের নৌকায় তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, উদ্ধার হওয়া নারীরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে আঙ্গুরী বেগম এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উল্লাহ নিজামী জানান, খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং ডুবুরি দলকেও খবর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনার চরাঞ্চলে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হন নারী শ্রমিকরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া আর নিরাপদ নৌযানের অভাব প্রায়ই তাদের জীবনকে ঠেলে দেয় অনিশ্চয়তার মুখে।