বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Channel18

অপরাধ

চার কারণে ব্যর্থ সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

চার কারণে ব্যর্থ সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান

যৌথ বাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরতে পরিচালিত বৃহৎ যৌথ অভিযান শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোনসহ পাঁচ বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিলেও অভিযানে ধরা পড়েনি কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী। র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২৯ আসামির কাউকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন ইয়াছিন মিয়া, যার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২১টি মামলা রয়েছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে হত্যাসহ ২৮টি মামলা। এ ছাড়া তাদের সহযোগী কাজী মশিউর রহমান, নুরু ভান্ডারী, সাদেক ও গফুরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এসব সন্ত্রাসীকে ধরতেই গত সোমবার দিনভর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য, জেলা পুলিশের ১৫০, মহানগর পুলিশের ৮০০, রেঞ্জ রিজার্ভ পুলিশের ৪০০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ১৫০ এবং র‍্যাবের ৪০০ সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। তবে অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২ জনকে, যাদের কেউই চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযানে কিছু গুলি ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল এবং একটি এলজি। তবে কথিত অস্ত্রভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার বুলেটসহ উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু প্রমাণও মিলেছে। কারা এসব অস্ত্র এনেছে এবং ব্যবহার করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এত বড় অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা থেকেই যায়। বর্তমান সময়ে সামান্য নড়াচড়ার খবরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযান শুরুর আগেই এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা খবর পেয়ে যায়। তারা আগের রাতেই রাস্তার কালভার্ট ভেঙে এবং ট্রাক এনে সড়ক অবরোধ করে রাখে। কেউ কেউ বোরকা পরে এলাকা ছাড়ে, আবার কেউ দূরের পাহাড়ে আশ্রয় নেয়।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে গত প্রায় ২০ মাসে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।

পুলিশ জানায়, ওই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল আসামিদের অনেকেই এখনও পলাতক রয়েছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এলাকাটি দীর্ঘদিন দুর্গম হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি ছিল না। তবে সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এখন থেকে সেখানে নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল ব্যবস্থা চালু করা হবে।