ঘটনার শুরু ২৮ মার্চ, ভোটগ্রহণ চলাকালে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতেহ আলী বাজার এলাকা থেকে ‘হরিণ’ প্রতীকের প্রার্থী আলাল শেখকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায় একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল হঠাৎ, দ্রুত এবং পরিকল্পিত।
পরে তাকে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়। হামলার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার দুই পা ও একটি হাত ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকার হাসপাতালের আইসিইউতে কয়েকদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়—যা স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আলাল শেখ বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেরু শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে—রনি শেখ (৩০), তৌফিক খান (২৬), গোলাম রসুল ওরফে নাহিদ (৩০) এবং সুমন মিয়া (৩৮)।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, আগে দায়ের করা গুরুতর জখমের মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
একটি সমবায় সমিতির নির্বাচন—যেখানে থাকার কথা ছিল গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহমতের পরিবেশ—সেটি রূপ নিল সহিংসতার মঞ্চে। প্রশ্ন উঠছে, একটি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচন কতটা ভয়াবহ হতে পারে, যেখানে একজন প্রার্থীকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়?
আলাল শেখের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, এটি স্থানীয় নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই নৃশংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে পারে।