১৯৭৪ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। প্রথমার্ধে জন ম্যাকগিনের করা গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। যদিও শেষদিকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল হাইতি। ৮৫তম মিনিটে ফ্রান্টজদি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এবার তাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হাইতি যদি এই ম্যাচে অবিশ্বাস্য কোনো ফল এনে দিতে পারে, তাহলে রাজধানী পোর্ত-অ-প্রিন্সসহ পুরো দেশজুড়ে তা আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মিনিয়ে বলেন, ‘স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যতটা দৌড়েছি, ব্রাজিলের বিপক্ষে তার চেয়েও বেশি দৌড়াতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে আমাদের পাওয়ারই বেশি। ৫২ বছর পর আমরা আবার বিশ্বকাপে খেলছি, আর এখন প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। আমাদের সমর্থকদের প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে হবে।’
হাইতি কোচের ভাষায়, ‘এখানে থাকতে পারাটা আমাদের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। আমি আশা করি, আমরা হাইতির মানুষকে আমাদের নিয়ে গর্ব করার সুযোগ দিতে পারব।’
স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পরও দলের লক্ষ্য বদলায়নি বলে জানান মিনিয়ে। তার মতে, প্রথম ম্যাচেই তারা প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার যোগ্যতা তাদের আছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারিনি, কিন্তু দেখিয়েছি যে এখানে থাকার যোগ্যতা আমাদের রয়েছে।’
মিনিয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বদলায়নি। আমরা নকআউট পর্বে যাওয়ার চেষ্টা করব, ভালো ফুটবল খেলব এবং প্রমাণ করব যে পরের রাউন্ডে জায়গা পাওয়ার যোগ্য আমরা। হয়তো তৃতীয় সেরা দল হিসেবেও সেটা সম্ভব হতে পারে।’
ব্রাজিলকে হারাতে পারলে দেশের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সে বিষয়ে মিনিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি এই ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে হাইতিতে সেটি হবে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাইতির মানুষ হিসেবে জীবনে সহজ সময়ের চেয়ে কঠিন সময়ই বেশি দেখতে হয়। কিন্তু ফুটবলের জগতে প্রবেশ করলে আপনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেন—বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন।’