মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বন্দর চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামান, কাস্টমস কমিশনার মুহা. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হকসহ দুই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এই অর্থনীতিকে প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীলতায় ফেরানো এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজেটেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো সর্বোপরি ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ তথা নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করায় সরকারের প্রধান উদ্দেশ্যে। ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে বিএনপি অতীতের মতো কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না। সেই ব্যবসায়ী যত বড় শক্তিশালী, মন্ত্রী-এমপি যাই হোক না কেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে নানা রেগুলেশনের মাধ্যমে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। সেসব বাধা দূর করা হবে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাজেটেই ডি-রেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগের চট্টগ্রামের যৌথ বৈঠকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। পোর্ট ও কাস্টমস যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে কাজ করার এই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাহসের সঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশিদের দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্দর যারাই চালাক না কেন তারা দেশের আইন ও বিধি মেনে চালাবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চট্টগ্রামে অতীতে হয়নি। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বন্দর-কাস্টমসে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস, শুল্কায়নসহ নানা ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা রয়েছে তা তুলে ধরে সমাধানেরও কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সবার সঙ্গে আলাপ করে বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। তা সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রী সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ বৈঠক নিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশ উৎফুল্ল।