কয়েক দিন আগে একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা হায়াত। এই আলাপচারিতায় নানা বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে নানা ঘটনা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। সঞ্চালক জানতে চান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রস্তাব এবং সেই সময়ে বলিউড থেকেও প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়ে।
জবাবে বিপাশা হায়াত জানান বলিউডের যে প্রস্তাব এসেছিল সেটি এত আগে নয় আরও পরে। বলিউডের সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল তার কাছে। সিনেমাটির নাম মনে করতে না পারলেও যে লোক ফোন করেছিলেন তার ফোন নম্বর এখনো বিপাশার ফোনে সেভ করা আছে এবং তার সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছে বলে জানান তিনি।
বলিউড সিনেমার প্রস্তাব ফেরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বিপাশা হায়াত জানান তখন তার মনে হয়েছিল তিনি তার দেশের মানুষকে কখনো ছোট করবেন না। তার দেশের মানুষ তাকে যেভাবে ভালোবাসে এবং দর্শকরা যেভাবে নিয়েছেন সেই দর্শক যদি দেখেন ওখানে যাওয়ার জন্য যেনতেন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন আসলে তিনি তা করতে পারেন না।
বিপাশা তার ভাবনা আরও খানিকটা ব্যাখ্যা করে জানান তারকা নয় বরং তিনি পাবলিক ফিগার বলছেন। এই পাবলিক ফিগার হয়ে ওঠার অনেক বড় একটি দায়িত্ব রয়েছে এবং প্রত্যেকটি কাজের মাধ্যমে এই দায়িত্ববোধ বহন করা উচিত যা তিনি বহন করতে চান। মানুষের ভালোবাসা ভীষণ স্বর্গীয়। এই পৃথিবীতে যত যুদ্ধবিগ্রহ কোন্দল ও মারামারি কাটাকাটি সবই ভালোবাসার অভাবে। সুতরাং মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান এবং এ জায়গা থেকে তার মনে হয়নি বাংলাদেশের চাইতে ওখানে গিয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন।
টিভি পর্দার সেই প্রিয় বিপাশা হায়াতকে এখন আর অভিনয়ে দেখা যায় না বললেই চলে। প্রিয় তারকাকে অভিনয়ে না পেয়ে দর্শকদের মনেও খানিকটা অভিমান জমা রয়েছে। কয়েক বছর আগে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়ে বিপাশা হায়াত জানিয়েছিলেন তিনি অভিনয়কে ভালোবাসেন কিন্তু সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আছে। নাটক তার কাছে পরিপূর্ণ এক শিল্প যেখানে বাণিজ্য অবশ্যই থাকবে। কিন্তু একটা সময় তার মনে হয়েছে বাণিজ্যই আসল শিল্প নয় এবং সবাই অনেক বেশি কম্প্রোমাইজ করছেন। তখন সিরিয়াসলি ছবি আঁকতে শুরু করেন তিনি কারণ আর্ট প্র্যাকটিস শতভাগ সময় দাবি করে এবং এভাবেই তিনি অভিনয় থেকে দূরে সরে গেছেন।