শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

বিনোদন

স্মরণে জুবিন গার্গ

বলিউডে রাজত্ব করেছেন এক যুগ, কিন্তু ভালোবেসেছেন বাংলাকে

বলিউডে রাজত্ব করেছেন এক যুগ, কিন্তু ভালোবেসেছেন বাংলাকে

 

ভারতের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। ৩৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪০টিরও বেশি ভাষায় গেয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার গান! তিনি জুবিন গার্গ। ২০০৬ সালে বলিউডের ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার কালজয়ী গান ‘ইয়া আলি’ দিয়ে উপমহাদেশের কোটি শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন এই কিংবদন্তি। গান থেকে খানিকটা সরে এসে চলচ্চিত্রে যখনই মন দিতে লাগলেন, তখনই আচমকা নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। ১৯ সেপ্টেম্বর, আজকের এই দিনে; ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জুবিন গার্গ। তার বিদায়ের এক বছর হলো।

 

আঞ্চলিক গান ও সংস্কৃতিকে সবসময় হৃদয়ে ধারণ করা এই বহুমুখী শিল্পী হিন্দি জগতে দীর্ঘদিন গান করলেও সেখানে মন রাখতে পারেননি; পরিবর্তে বাংলা ও অসমীয়া ভাষায় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুরের মায়াজালে বেঁধে রেখেছেন।

১৯৯২ সালে অসমীয়া ভাষার নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘অনামিকা’ প্রকাশের মাধ্যমে তার এই বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রার সূচনা। একই বছর ‘সপুরনোর সুর’ ও ‘অনুরাধা’ নামে আরও দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করে গানের জগতে পা রাখেন এই শিল্পী।

 

বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বলিউডে তার আনাগোনা শুরু হয়। ‘গ্যাংস্টার’ দিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলার পর একই বছর ‘আই সি ইউ’ সিনেমার ‘সুবাহ সুবাহ’ গানেও কণ্ঠ দেন জুবিন। বলিউডে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়ার পর সর্বশেষ ‘কৃষ থ্রি’ সিনেমার ‘দিল তু হি বাতা’ গানেও শোনা যায় তার জাদুকরী কণ্ঠ। এরপর আর বলিউডে গান করেননি।

পাশাপাশি টলিউডেও ছিল তার সমান রাজত্ব। একসময় দেব, রাহুল, সোহমদের সিনেমার আবহ সংগীতের নিয়মিত কণ্ঠ ছিলেন তিনি। ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’, ‘পিয়া রে’ কিংবা ‘মন মানে না’ গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর মেঘালয়ের তুরা শহরে এক অসমীয়া ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম জুবিন গার্গের। তার প্রথম গুরু ছিলেন তারই মা। পরবর্তীতে গুরু রবীন ব‍্যানার্জীর কাছে তবলা ও গানের তালিম নেন, আর অসমীয়া লোক সংস্কৃতির দীক্ষা পান রমনী রায়ের কাছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘রাজপুত্র’ খ্যাত এই শিল্পী শুধু গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০০০ সালের দিকে ‘তুমি মোর মাথো মোর’ চলচ্চিত্র দিয়ে তার অভিনয় ও পরিচালনার শুরু। এরপর ‘দিনবন্ধু’, ‘মন যায়’, ‘মিশন চায়না’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ও সর্বশেষ ‘রই রই বিনালে’ (২০২৫)-এর মতো অসংখ্য চলচ্চিত্রে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তার সর্বশেষ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর।

বলিউডে একের পর এক হিট গান উপহার দেওয়ার পরও হঠাৎ করেই হিন্দি সিনেমা থেকে দূরত্ব তৈরি করেন জুবিন। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে কলকাতা সফরে এসে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এর পেছনের কারণ নিজ মুখেই খোলসা করেছিলেন স্পষ্টভাষী এই শিল্পী।

যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘বলিউডে নতুন কী উপহার দিচ্ছেন?’ জুবিন সোজাসাপ্টা উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমি অনেকদিন বলিউডে কাজ করিনি। মানে লাস্ট আমি ‘কৃষ থ্রি’-তে গেয়েছি, তারপর আর গাইনি। আমি ফিল্মে ঢুকে গেলাম। আসামে ফিল্ম বানাচ্ছি—প্রডিউসিং, ডিরেক্টিং, অ্যাক্টিং... তাই একটু টাইমের প্রবলেম আছে। কারণ আমি রিজিয়নাল, মানে বাংলা, আসাম... এই রিজিয়নাল মার্কেটে বেশি গুরুত্ব দিই। তবে আবার যাব, বলিউডে যাব, আবার গাইব।’

‘ইয়া আলী’-র মতো আইকনিক গান যার ঝুলিতে, তিনি কেন বলিউড থেকে দূরে? বলিউডের কপি বা নকল করার প্রবণতাই কি এর কারণ? এমন প্রশ্নের জবাবে জুবিন কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলায় বা আসামে যে মিউজিক করি, যা ফিল্ম বানাই, আমরা কিন্তু কপি করি না। কিন্তু বলিউডে ফুল কপি হয়, স্ট্রেট। তাই আমি বলিউডকে ভালোবাসি না। আমি স্ট্রেট কথা বলি, এটা সবাই জানে।’

বাংলার প্রতি তার টান ছিল আত্মিক। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘শুধু কলকাতা না, আমি পুরো বেঙ্গলকে ভালোবাসি। বেঙ্গল-আসামের সংস্কৃতি এক, কালচার এক, ফুড হ্যাবিট এক, আমরা একই রকম মাছ ভালোবাসি। সো, আই লাভ বেঙ্গল, আই লাভ আসাম। আমি নিজেকে সবসময় আধা বাঙালি বলি।’

কথা ছিল সিঙ্গাপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুরের মূর্ছনায় গান শোনাবেন। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীত জগতের এই ধ্রুবতারা সবাইকে স্তব্ধ করে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে একটি বছর। যে কণ্ঠ একসময় পুরো আসামের জীবনধারাকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছিল, সেই গায়কের অকালমৃত্যু এখনো রহস্য আর আইনি দ্বন্দ্বে ঘেরা।

একপাশে সিঙ্গাপুর প্রশাসনের ‘দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যু’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন, অন্যদিকে ঘরের মাঠে আসাম পুলিশের হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর তদন্ত। আসামজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) খুনের চক্রান্ত ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করেছে শো আয়োজক ও জুবিনের ম্যানেজারসহ সাতজনকে।

আন্তর্জাতিক তদন্তের ফলাফল আর দেশীয় আদালতের বিচার শেষ পর্যন্ত যে দিকেই যাক না কেন, জুবিন গার্গ আজ লাখো ভক্তের কাছে ‘অমর’। আসামের প্রকৃতি ও বাতাসে, বাংলার পথে-প্রান্তরে তার সুরের যে জাদুকরী ছোঁয়া তিনি রেখে গেছেন, সময় তাকে কখনো ফিকে করতে পারবে না।

আরও

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাওয়ার দৌড়ে পাঁচ সিনেমা

বিনোদন

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাওয়ার দৌড়ে পাঁচ সিনেমা

চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার। এই পুরস্কারের ৯৯তম আসরে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফি...

২০২৬-০৯-১৭ ২২:২৩

দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে

বিনোদন

দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়া...

২০২৬-০৯-১৪ ১২:৪১

মেয়ে কারিনার পাসপোর্ট বুকে চেপে কাবা প্রাঙ্গণে কায়সার হামিদ

বিনোদন

মেয়ে কারিনার পাসপোর্ট বুকে চেপে কাবা প্রাঙ্গণে কায়সার হামিদ

ইচ্ছে ছিল মেয়েকে নিয়ে পবিত্র কাবা শরিফে ওমরাহ পালন করবেন। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্...

২০২৬-০৯-১৪ ০৮:৩৪