রাহুল যাদব বগুড়া শহরের নামাজগড় ডালপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ডাল আমদানির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল সাদিক।
স্বজনদের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে কয়েক মাস আগে স্ত্রী তাদের আট বছর বয়সী মেয়েকে রেখে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রাহুল। একমাত্র সন্তানকে নিয়েই দিন কাটছিল তার।
ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, “নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে। ভালো লাগছে না। আর ভালো থেকো সবাই। আমার বাবুটাকে তোমরা সবাই দেখে রাখিও…”
স্ট্যাটাসটিতে নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আর গভীর হতাশার ইঙ্গিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন রাহুল। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
এসআই আব্দুল্লাহ আল সাদিক জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, পারিবারিক ভাঙন ও মানসিক চাপ নীরবে মানুষের জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে—রাহুলের মৃত্যু যেন তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।