শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের লতিফপুর কলোনির প্রীতি প্রাইমারি স্কুলের পেছনের একটি গলিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ শেখ ওই এলাকার আজিজ শেখের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে আরিফের দ্বন্দ্ব চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার গভীর রাতে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নির্জন গলিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট বোন রুমি আফরিন দাবি করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার অভিযোগ, সেলিম, তার ভাগনে শুভ ও জীবন নামের তিন ব্যক্তি সরাসরি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, আমার ভাই অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য আগে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইছিল। এ নিয়ে আমাদের মামার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
তবে পরিবারের এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনার পর লতিফপুর এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে যদি একজন মানুষকে কৌশলে ঘর থেকে ডেকে এনে হত্যা করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এখন এলাকাবাসীর নজর পুলিশের তদন্ত ও অভিযানের দিকে।