বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১টায় বগুড়ার ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বগুড়া বিমানবন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলের অফিসার কমান্ডিং গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসাইন মুহাম্মদ রায়হান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শ্রী পরিমল চন্দ্র দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ শুধু একটি বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয় নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় এয়ার ভাইস মার্শাল শামীমুল ইসলাম জানান, সরকার বগুড়ার এরুলিয়ায় অবস্থিত বিদ্যমান এয়ারফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বিমানঘাঁটি এবং দক্ষ পাইলট তৈরির লক্ষ্যে একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কার্গো সুবিধা চালুর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে। বগুড়া ধীরে ধীরে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত হবে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও আকাশসীমা সুরক্ষায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি বা স্টেশন স্থাপনের বিষয়টিও পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শুধু উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেই নয়, বরং দেশের অন্যতম কৌশলগত বিমান যোগাযোগ ও সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবেও নতুন পরিচিতি লাভ করবে।