স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকৃবির জব্বারের মোড় রেল ক্রসিং থেকে বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনিস্টিউট (BINA) ও বাকৃবি মিউজিয়াম হয়ে দিঘারকান্দা মেইনরোড পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় পিচ -ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যেন ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়। ফলে দিঘারকান্দা বাইপাস, ব্রিজ কিংবা গাংগিনাপাড়—যেখান থেকেই মানুষ গাড়িতে উঠুক না কেন, পুরো পথ জুড়েই তাড়া করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে পানি থইথই করছে। এর মধ্যেই হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা শাখা ফটকের সামনেই গর্তে আটকে থাকতে দেখা যায় একটি মাইক্রোবাস। চালক বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দুই ঘণ্টা ধরে গাড়িটা নিয়ে এখানে আটকে আছি। এই সড়ক দিয়ে দিন-রাত গাড়ি চলে, অথচ এত দিনেও কেউ গর্তগুলো ভরাট করার উদ্যোগ নিচ্ছে না।"
সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইনুল হক নামের এক আলেম আক্ষেপ করে বলেন, "আর ছবি তুলে কী লাভ! অনেকেই ছবি তুলে নিয়ে যান, কিন্তু রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। সামান্য কিছু ইট-সুরকি ফেলে রাখলেও তো মানুষ অন্তত চলাচল করতে পারত।"
বাকৃবির পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী সালমা রাশমি বলেন, "সড়কের বড় বড় গর্তে গাড়ি আটকে সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকে। অনেক সময় নোংরা কাদাপানি ছিটে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। হেঁটে চলারও উপায় নেই। রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে শুক্রবার কোনো আত্মীয় বেড়াতে আসলেও আমবাগানের দিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া যায় না।"
ভুক্তভোগীদের মতে, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। গত দুই বছর ধরে রাস্তাটির এমন করুণ দশা। অথচ এই এলাকাতেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা, স্টেডিয়াম, মিউজিয়াম ও বিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যারা নিরাপত্তা দেবেন, রাস্তার কারণে তো তারাই সময়মতো পৌঁছাতে পারবেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে না কেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
জব্বারের মোড়ের ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা নালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। ফলে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে শুরু করে মালবোঝাই ট্রাক-পিকআপ প্রায়ই এখানে উল্টে যায় বা গর্তে আটকে পড়ে।
আমিনুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "বর্ষা শুরুর পর থেকে গর্তগুলো ভেঙে এখন আরও বড় হয়ে গেছে।"
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা মাহমুদ হাসান নামের এক পর্যটক বলেন, "ক্যাম্পাসের পরিবেশ ঘুরে দেখতে খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু এই সড়কটির অবস্থা দেখে খারাপ লাগল। শুনলাম গত বছরও নাকি এমন অবস্থা ছিল। পরে কিছু ইট-বালু ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো সংস্কার করা হয়নি।"
সড়কের এই বেহাল দশা ও সংস্কারের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি আপাতত একটি জরুরি মিটিংয়ে আছি, এ বিষয়ে আপনার সাথে পরে কথা বলব।"
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।