বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা, চরম অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ বাগেরহাট জেলা সংগঠনের আহ্বায়ক ও জুলাই যোদ্ধা মো. রাসেল মাঝি (৩০)। একই সঙ্গে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জুলাই যোদ্ধা রাসেল মাঝি। এ সময় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তার ও জুলাই যোদ্ধা মো. আল মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।
রাসেল মাঝি জানান, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁর রক্তের মাত্রা ৭.২-এ নেমে যাওয়ার কথা জানান এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুই দিনে তাঁকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার কথা বলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় ব্যাগ রক্ত দেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ইনজেকশন না দিয়ে ইন্টার্নি নার্স শারী সরকার তাঁকে একটি ইনজেকশন সরাসরি শিরায় (IV) পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তাঁর পুরো শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁর স্ত্রীর চিৎকারে চিকিৎসকরা এসে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর তাঁর অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে দাবি করেন।
জুলাই যোদ্ধা রাসেলের দাবি, পরবর্তীতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওই ইনজেকশনটি শিরায় না দিয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মাংসপেশিতে (IM) প্রয়োগ করার কথা ছিল। ভুলভাবে ইনজেকশন প্রয়োগের কারণেই তাঁর জীবননাশের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দায়িত্বশীল নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা এবং অনভিজ্ঞ ইন্টার্নিদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিষয়ে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাসেল। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নিয়েছেন এবং ইনজেকশনটি দুই ভাবে দেওয়া যায়, নির্দেশ ছিল মাংসে দেওয়ার কিন্তু ইন্টারনি শিরা পথে দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইন্টার্নি নার্সের হাসপাতালের কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল কি না, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা জানা যাবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁকে সম্মান ও সহযোগিতা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কোনো অনৈতিক সুবিধার জন্য নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই যোদ্ধা রাসেল মাঝি তাঁর স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।