রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আকাতের ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় পদ্মার স্রোতে নিখোঁজ থাকা এই তরুণ ছাত্রনেতার মরদেহ। রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এবং পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের মৃত হাসানুজ্জামানের ছেলে।
ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণীতে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শৈলকুপার কাতলাগড়ী ঘাট থেকে মোট ১২৩ জনের একটি আনন্দযাত্রী দল বাল্কহেডে চড়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত হযরত সোলাইমান শাহ্ (র.)-এর মাজার জিয়ারত ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। দিনভর হাসি-আনন্দে সময় কাটিয়ে রাতের আঁধারে তারা নদীর পথ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন।
কিন্তু রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পদ্মার প্রচণ্ড শ্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৪ নম্বর পিলারের সাথে সজোরে আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে বাল্কহেডের পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেলে মুহূর্তে নদীতে পড়ে যান ছাত্রদল নেতা রকি, লিটন কুমার দাস ও আব্দুল ওহাব নামের তিন যাত্রী। এ দুর্ঘটনায় লিটন ও আব্দুল ওহাব বেঁচে ফিরলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নদীর বুকে চিৎকার ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। সহযাত্রীদের আপ্রাণ চেষ্টায় লিটন ও ওহাবকে জীবিত অলৌকিকভাবে নদী থেকে টেনে তোলা সম্ভব হলেও, পদ্মার গহীন তলদেশে হারিয়ে যান সাঁতারে পারদর্শী রকি। শৈলকুপার এমপি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সার্বিক তত্বাবধানে ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ দ্রুত পদ্মার বুকে নেমে পড়ে। কিন্তু রাতের ঘোর অন্ধকার, তীব্র বাতাস আর নদীর প্রমত্তা স্রোত বারবার রকিকে খুঁজে পাওয়ার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে পুরো শনি ও রবিবারের সকাল—দীর্ঘ ৩৫টি ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ড ছিল রকির পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য একেকটি পাহাড়সম অপেক্ষার যাতনা। নদী তীরে বসে রকির বৃদ্ধা মা ও স্বজনদের আকুতি আর বুকফাটা আর্তনাদে পদ্মা তীরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সবাই ভেবেছিলেন, অদম্য রকি হয়তো স্রোত কেটে পাড়ে উঠে আসবে। কিন্তু সমস্ত আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে রোববার সকালে ঈশ্বরদীর আকাতের ঘাটে রকির নিথর দেহ ভেসে ওঠে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, সকালে স্বজনেরা লাশের সন্ধান পেয়ে ঈশ্বরদীতে গিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ নিজ গ্রাম শৈলকুপার কবিরপুর এনে দাফন করা হবে।
তরুণ, হাসিখুশি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল এই ছাত্রদল নেতার মর্মান্তিক সলিলসমাধির খবর শৈলকুপায় পৌঁছালে পুরো কবিরপুর গ্রাম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান রকির মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিন এক ফেসবুক পোষ্টে উল্লেখ করেছেন, রকির মতো উদীয়মান নেতার মৃত্যুতে দল এক পরীক্ষিত কর্মীকে হারালো, যা অপূরণীয় ক্ষতি।