দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় আনা হয়। আর জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
মারুফ দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারুফ। তবে ধারদেনা শোধ করার জন্য সহকর্মী ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন। সন্তানকে লালন-পালনের জন্য তাদের কাছে দিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারুফের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের পারিবারিক কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাঁরা আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর শিশুটিকে তাঁর দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনা করছিলেন।
মাহফুজা বেগম বলেন, গত শনিবার সকালে শিশুটিকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান মারুফ। সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল টাকার বিনিময়ে তাঁর নাতিকে নিয়েছেন। মহিবুলের কোনো ছেলেসন্তান নেই।
পরিবারের দাবি, শিশুটির দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ওই টাকা ও নিজের পুরোনো আইফোনের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে মারুফ নতুন আইফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালায় জানিয়ে ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না থাকায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।