প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে (৪৮ বছর পূর্বে) বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে সেই ভাড়ার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন তিনি। তার এই সততা এখন মুখে মুখে ফিরছে স্থানীয়দের।
ঘটনাটি ১৯৭৭ সালের। তখন জীবিকার তাগিদে কিশোর মফিজুল ইসলাম প্রায়ই ট্রেনে ঢাকা যাতায়াত করতেন। সে সময় আর্থিক অনটন আর অসচেতনতার কারণে অনেক সময়ই টিকিট ছাড়াই ভ্রমণ করতেন তিনি। বিষয়টি তখন সাধারণ মনে হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মফিজুলের বিবেকে দংশন করতে শুরু করে। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দায়বদ্ধতা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।
অবশেষে নিজের বিবেককে দায়মুক্ত করতে গত ৭ এপ্রিল শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে হাজির হন মফিজুল ইসলাম। স্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়ে তিনি খোলামেলাভাবে তার অতীতের সেই ভুল স্বীকার করেন এবং সে সময়কার অনাদায়ী ভাড়া পরিশোধের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। প্রায় ৫০ বছর আগের ঘটনা শুনে প্রথমে রেল কর্মকর্তারা বিস্মিত হলেও তার সততাকে সম্মান জানান।
পরবর্তীতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমান বাজারমূল্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে মফিজুল ইসলামের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
ভাড়া পরিশোধের পর এক প্রশান্তির হাসি নিয়ে মফিজুল ইসলাম বলেন, তখন ছোট ছিলাম, অন্যায়ের গভীরতা বুঝিনি। কিন্তু বড় হওয়ার পর থেকে সবসময় মনে হতো— আমি রাষ্ট্রের কাছে ঋণী হয়ে আছি। আল্লাহর কাছে দায়মুক্তি আর নিজের আত্মতৃপ্তির জন্যই এই টাকা দিয়েছি। এখন আমি সত্যি শান্তিতে ঘুমাতে পারব।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং শিক্ষণীয় একটি ঘটনা। এত বছর পর কেউ নিজ থেকে এসে ভুল স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করবেন— এটি সত্যিই বিরল। তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যখন চারদিকে নৈতিক অবক্ষয়ের কথা শোনা যায়, তখন মফিজুল ইসলামের এই সততার গল্প মানুষের মনে নতুন আশা জাগায়। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি এখন সততা ও দায়বদ্ধতার এক জীবন্ত উদাহরণ।