প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা যদি ১০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে অন্তত ৩০ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিতে হবে। যদি তারা ২০ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেয়, তাহলে অবশিষ্ট ১০ কোটি টাকার ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে এ কর পরিশোধ না করলে শুনানির সুযোগ দিয়ে কর নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে কর কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে মুনাফা সংরক্ষণের ওপর কর আরোপের যে বিধান রয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় তা সরাসরি লভ্যাংশ বিতরণের হারের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এ ছাড়া নগদ লভ্যাংশের তুলনায় বেশি স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলে বা শুধু স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। যদিও এ ক্ষেত্রেও ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিদ্যমান করহার বহাল থাকবে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা ধরে রেখে কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর ওপর শেয়ারহোল্ডারবান্ধব নীতি গ্রহণের চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
তবে এ ধরনের বাধ্যতামূলক লভ্যাংশ নীতির বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, আন্তর্জাতিক চর্চায় কোম্পানির লভ্যাংশ নির্ধারণ পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তের বিষয়। বিশেষ করে সম্প্রসারণশীল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই মুনাফার বড় অংশ পুনর্বিনিয়োগ করে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান বাস্তবতায় কম লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রস্তাবিত বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে আয়কর আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হতে পারে।