গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন মেসি। তার দুই গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। তার মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন তিনি।
এবারের আসরে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিতেই অবদান রয়েছে মেসির। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি শুধু দলকে নকআউট পর্বের পথে এগিয়েই নেননি, নিজের কিংবদন্তিতেও যোগ করেছেন নতুন অধ্যায়।
এটি মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে অভিষেক হয় তার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে গড়ছেন একের পর এক নতুন রেকর্ড।
৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। তার নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন মেসি। ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আপাতত এত দূরের কথা ভাবছেন না। মেসির ভাষ্য, ‘আমি এখনও কিছুদিন খেলতে চাই। যতদিন দলের জন্য অবদান রাখতে পারব, শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব, ততদিন খেলে যাব।’
২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এখনই সেটা নিয়ে ভাবছি না। সময়টা এখনও অনেক দূরে। আমি বর্তমানে মনোযোগ দিচ্ছি এবং দিন ধরে এগোচ্ছি।’ প্রতিবেদন ফক্স স্পোর্টসের।
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ জে-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় লিওনেল স্কালোনির দল। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন মেসি। পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।