জানা গেছে, রাজধানীতে বকশীবাজারে অবস্থিত নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানে হিসাব রক্ষক হিসেবে চাকরির সুবাদে প্রতারণা করে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে বিপুল অঙ্কের টাকার হাতিয়ে নেন প্রতারক রাজিব। ওই আত্মসাৎ করা টাকা দিয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় একটি ছয় তলা বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন। রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্লট ও ফ্ল্যাটের শেয়ার কিনেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, দেড় বছর আগে আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ার পর রাজিব আত্মসাৎকৃত অর্থের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। বরং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলা চালানো এবং কর্তৃপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে দৈনিক রূপবাণীসহ একাধিক পত্রিকার আইডিকার্ড নিয়ে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতিসহ জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলাও রয়েছে। নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো. কেতাব আলী জানান, ২০১৯ সালে নাহিদ এন্টারপ্রাইজে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন রাজিব। কিছুদিন যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে হিসাব রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন।
এরপর প্রতারক রাজিব প্রতিষ্ঠানের সরলতার সুযোগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নজরে এলে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর কর্তৃপক্ষ রাজিবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ১০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলা করে। মামলার অন্য দুজন আসামি হলেন শিহাবুর রহমান ও মামুন সেরনিয়াবাত। তারা এখনো পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার মডেল থানার এসআই মো. হারুন জানান, গত মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে রাজিবকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন হাসিবুল।