ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়।
একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরায়েলও নিরাপদে নেই। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে রকেট হামলা বৃদ্ধি করেছে।
ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এক মাস আগে যুদ্ধের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও সেনা অবস্থান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এখন জ্বালানিক্ষেত্রের মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের পরিসর পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি আলোচনায় বসানো। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সরাসরি ও পরোক্ষভাবে’ আলোচনা করছে।
ইসরায়েলে হামলায় ইয়েমেনের হুতিরা যুক্ত হওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো লোহিত সাগরেও চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলোচনার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। স্থল অভিযান হলে মার্কিন সেনারা ‘বৃষ্টির মতো’ গুলিবর্ষণের শিকার হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় মূল ভূমিকায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৈঠক করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা একটি ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।