কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসফাহান প্রদেশের একটি বড় গ্যাস উৎপাদন সংস্থা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে সংস্থার স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের আবাসিক এলাকা ও স্থানীয় অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোরমশহর এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রমও সরাসরি ব্যাহত হচ্ছে।
ইরান দাবি করেছে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পটভূমি অনুসারে, গত শনিবার তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে এবং তার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। পরে সোমবার তিনি হঠাৎ ঘোষণা করেন যে, ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কারণে আগামী ৫ দিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না।
কিন্তু ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যে, ট্রাম্পের ঘোষণা কতটা বিশ্বাসযোগ্য ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ফলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরাক ও কুয়েত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।