মিডল ইস্ট আই-এর খবরে বলা হয়েছে, পাল্টাপাল্টি হামলার জবাবে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে ইরান কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ে। এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তিনি এবিসি নিউজকে বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়টি ভাবছেন, যেখানে দুই দেশ জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।
এর ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো তাদের স্বার্থের তোয়াক্কা না করেই তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। ইরানও সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড়।
হরমুজ প্রণালি ও লেবানন সংকট
ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে, লেবাননে হামলা ও লাভান দ্বীপে অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে জলপথ খোলা আছে, ভেসেল-ট্র্যাকিং তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫০-এর বেশি নিহত ও ৭০০ আহত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ইরান ভেবেছিল লেবানন যুদ্ধবিরতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা নয়।’ তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সব জায়গায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: মূল ‘রেড লাইন’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর জন্য ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে না, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের ‘রেড লাইন’। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক রান্ডা স্লিম বলেছেন, ‘মূল সমস্যা হলো ইউরেনিয়াম। ইরান তাদের ১০ দফা দাবিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে।’
ট্রাম্প শুরুতে ইরানের ১০ দফাকে আলোচনা ভিত্তি বললেও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সব নিউক্লিয়ার ধূলিকণা অপসারণ করবে।’ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং শনিবার ইসলামাবাদে দুই পক্ষের আলোচনায় বসার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত।