এনজোকে বিক্রি করে চেলসি বড় অঙ্কের অর্থ পেলেও দলবদলের শেষ মুহূর্তে তার বিকল্প কোনো মিডফিল্ডার দলে ভেড়াতে পারেনি ‘ব্লুজরা’। জাবি আলোনসোর অধীনে চেলসি মোনাকোর লামিন কামারাকে দলে নেওয়ার জন্য চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মোনাকো চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোয় এনজোর বিকল্প ছাড়াই দলবদলের উইন্ডো শেষ করতে হয়েছে পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটিকে।
পুরো দলবদল পর্বজুড়েই ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন এনজো। শেষ পর্যন্ত ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার পুনর্মিলন হলো সাবেক কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গে। ২৫ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সিটিতে খেলবেন ১৭ নম্বর জার্সি পরে।
নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এনজো বলেছেন, ম্যানচেস্টার সিটি ‘সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ক্লাব’। সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এমন একটি ক্লাবের অংশ হতে চায়, কারণ সবাই জানে সিটি কতটা সুশৃঙ্খল ও চমৎকারভাবে পরিচালিত হয়।’
নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এনজো আরও বলেন, ‘এখানে এসে আমি ভীষণ খুশি এবং সিটির ট্রফি জেতার ধারা অব্যাহত রাখতে আমি যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এটি এমন একটি ক্লাব যা সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। দলের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, সিটির প্রতিটি পজিশনে মানের কোনো কমতি নেই। আমি আমার নতুন সতীর্থদের কাছ থেকে শিখতে চাই এবং একজন ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠতে নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই।’
নিজের মানসিকতা ও পরিশ্রম নিয়েও কথা বলেছেন এনজো। তার ভাষায়, ‘আমি নিজের খেলাকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে পছন্দ করি। যারা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা সবাই জানেন আমি প্রতিদিন কতটা কঠোর পরিশ্রম করি এবং ম্যাচে নিজের কতটুকু উজাড় করে দিই। আমি সবসময় শতভাগ দিই এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে কথা দিচ্ছি, এখানে আসার পর এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
সিটিতে ১৭ নম্বর জার্সি বেছে নেওয়ার কারণও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি নম্বর যা আমার ভীষণ পছন্দ। এটি আমার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। জাতীয় দলেও এটি ছিল আমার প্রথম জার্সি নম্বর, তাই এই নম্বরটি বেছে নিতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’
২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে ১৭০ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ। ‘ব্লুজদের’ জার্সিতে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে গত বছর, যখন চেলসি ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে।