রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত: ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ফলে যুদ্ধটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বনাম রাশিয়া এর প্রক্সি সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল সংঘাত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলের বাজার, খাদ্য ও সার সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
এই দুটি যুদ্ধ ভৌগোলিকভাবে আলাদা, কিন্তু বৃহৎ শক্তিগুলোর অবস্থান ও জোটের কারণে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
গড়ে উঠছে নতুন বৈশ্বিক ব্লক
পশ্চিমা ব্লক: যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো দেশ (ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি) ও অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্র, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করছে। একইসাথে ইরানের বিরুদ্ধেও অবস্থান।
উদীয়মান ব্লক: রাশিয়া, চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে, যা পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতায় উদীয়মান ভূরাজনৈতিক ব্লক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘোষণাবিহীন যুদ্ধ: হাইব্রিড যুদ্ধ
প্রক্সি যুদ্ধ: রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়ছে, ন্যাটো দেশগুলো অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতে।
অর্থনৈতিক যুদ্ধ: নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা ও জ্বালানি রাজনীতি প্রধান হাতিয়ার।
সাইবার ও প্রযুক্তি সংঘাত: সাইবার হামলা, স্যাটেলাইটে বিঘ্ন এবং তথ্যযুদ্ধ এখন ভূরাজনীতির অংশ।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ চেইন ভাঙা—সব মিলিয়ে অর্থনীতি এখন একটি অপরোক্ষ যুদ্ধক্ষেত্র।
কেন এটি এখনও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়
পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের অনুপস্থিতি: যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধ করছে না, চীন ও ন্যাটোও সরাসরি সংঘাতে নেই।
পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি সংঘর্ষের অভাব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে এখনও অবশ্যম্ভাবী করেনি।
নতুন ধরনের বৈশ্বিক সংঘাত
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন ‘কোল্ড ওয়ার’ বা বহুমেরু সংঘাতের যুগে প্রবেশ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান সংকট, তাইওয়ান উত্তেজনা, সাইবার যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক বিভাজন—all একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং এখন প্রশ্ন হলো, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে কি না নয়, বরং আমরা কি ইতোমধ্যেই তার প্রাথমিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি-এটাই মূল আলোচনার বিষয়।