সফরকালে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘে যে বার্তা দেবেন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচি থাকবে। সাধারণ পরিষদের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
এ ছাড়া গত ছয় মাসে সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন বিলসহ ক্ষমতায় আসার পর সরকারের নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অন্যান্য উদ্যোগের রূপরেখাও তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনায় থাকবে রোহিঙ্গা সংকট
প্রধানমন্ত্রীর সফরে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট আয়োজনের কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।
জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন নিয়ে আলাদা আলোচনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরকালে সরকার বৃহত্তর রোহিঙ্গা সংকটের দিকেই নজর দেবে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় বিশ্বনেতাদের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক অনেক সময় শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলেও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ দেবে।
তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন আকাঙ্ক্ষা’র সূচনা করবে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার দিকনির্দেশনা দেবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রোহিঙ্গা সংকটও এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সম্পৃক্ত করে একটি পৃথক অধিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।