স্থানীয় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডো আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী এই ঝড়ে গ্রামের চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে ও শতাধিক গাছপালা ভেঙে যায়। এছাড়া ছোট-বড় প্রায় ২০টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে উড়ে গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় ৩৫টি পরিবারের বৈদ্যুতিক মিটারও বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে গিয়ে পড়ে।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দেখা গেছে, এতে গ্রামীণ জনপদটির প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ করে বসতভিটা, গাছপালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে এখন চরম হতাশা ও হাহাকার বিরাজ করছে।
ঝড়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার ৭০ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহ টর্নেডো আর কখনো দেখিনি। চোখের পলকে যেন কেয়ামত নেমে এসেছিল।
এদিকে ঘটনার পর পরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা সরাসরি প্রত্যক্ষ করি। তাদের জরুরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে জেলা সদরে জেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যুক্ত থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।