মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
শুনানিতে তোফায়েল আহমেদের পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতকে জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনজীবীর দাবি, তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না এবং তার স্মৃতিশক্তি কাজ করছে না, ফলে তিনি আদালতে হাজির হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে অক্ষম।
তিনি আরও বলেন, আসামির মানসিক অসুস্থতা রয়েছে এবং স্মৃতিভ্রষ্ট অবস্থায় আছেন। এ কারণে তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন জানিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপনের উদ্দেশ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ স্থানান্তর ও পরে উত্তোলন করা হয়।
তদন্ত শেষে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলাটি পুনরায় চালু হয় বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
তিনি জানান, পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মঙ্গলবারের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পলাতক অবস্থায় আসামির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন নামের একজন জামিনে থেকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির ছিলেন।