সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসা প্রায় দুই কোটি এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকা সরকারের হাতে থাকলেও জনবল ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য খাতের কিছু প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত টিকার সরবরাহ থাকলেও এরপর দীর্ঘ সময় টিকা বিতরণ স্থগিত থাকে।
ফলে প্রায় ৯ মাস ধরে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশু হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাচ্ছে না, এমনকি দেড় বছরের শিশুরা নির্ধারিত দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করতে পারছে না।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, “টিকার জন্য ‘গ্যাভি’ গত মাসে বাংলাদেশে দুই কোটি ডোজ পাঠিয়েছে। তবে জনবল, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক ও অর্থের অভাবে টিকা প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা গ্যাভিকে চিঠি দিয়েছি এবং আশা করছি শিগগির সমস্যার সমাধান হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, টিকার জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দেশে ১২ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলা হল ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোর। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজিপুর, ভোলা ও পটুয়াখালী থেকেও শিশুদের রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়া এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও অপুষ্টি ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ শিশুদের প্রধান ঝুঁকিতে ফেলে।”
গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (GAVI) সিএসও ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, “একাধিক টিকার অভাব ও কর্মীদের ঘাটতির কারণে শিশুদের টিকাদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে যারা নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।”