থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ননথাবুরির দেবসিরিন স্কুলের ওই ছাত্র প্রথমে তার বাড়িতে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে স্কুলে গিয়ে আরও পাঁচ শিক্ষককে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে নিজেই আত্মহত্যা করে।
আত্মহত্যার সময়ও বন্দুকধারীর কাছে ৩০টির বেশি গুলি অবশিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টার একটু পর এই হামলা শুরু হয়। পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালিয়েছিল এবং হামলাটি আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ছিল। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ প্রকাশ করেনি, যদিও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে পড়াশোনার চাপের কারণে ওই কিশোর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকতে পারে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেবসিরিন স্কুলের এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জানায়, ওই সময় সে তার শিক্ষিকার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কথা বলার মাঝেই হামলাকারী এসে শিক্ষিকাকে গুলি করে। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে স্কুলের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায় এবং অনেকে শ্রেণিকক্ষে লুকিয়ে থেকে রক্ষা পায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আশপাশের স্কুলগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ রক্তদানের আহ্বান জানায়।
থাইল্যান্ডে অস্ত্র রাখার কঠোর আইন থাকলেও দেশটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার হার বেশ বেশি। এই ঘটনার পর দেশটির সরকারের ওপর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল শোক প্রকাশ করে ঘোষণা দিয়েছেন যে নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী এখন থেকে শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদেরই অস্ত্র বহন করার অনুমতি দেওয়া হবে।
সূত্র: বিবিসি।