দেশে সংবাদমাধ্যমের ধরন গত এক দশকে দ্রুত বদলে গেছে। অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আর সংবাদপত্র হাতে নেওয়ার অপেক্ষা করেন না; বরং মোবাইল ফোনে অনলাইন পোর্টাল খুলে খবর পড়েন বা টেলিভিশনের লাইভ আপডেট দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে খবর।
কিন্তু যে খাতগুলো এখন মানুষের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে, সেই টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নেই বেতন কাঠামো, নির্ধারিত ছুটি বা চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো স্পষ্ট নীতিমালা।
দৈনিক পত্রিকা খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে ওয়েজ বোর্ড। এর মাধ্যমে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি চাকরি থেকে বাদ পড়লে নির্দিষ্ট সময়ের বেতন বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিধানও আছে। ফলে পত্রিকায় কর্মরতদের একটি ন্যূনতম নিরাপত্তা থাকে।
অন্যদিকে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে এমন কোনো কাঠামো নেই। অনেক ক্ষেত্রে বেতন, ছুটি কিংবা চাকরির স্থায়িত্ব পুরোপুরি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর।
পত্রিকা মালিকদের সংগঠন হিসেবে রয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন হিসেবে রয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। তবে টেলিভিশন খাতে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বা কর্মপরিবেশের বিষয়ে এখনো কোনো সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি।
অনলাইন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তবতা দেখা যায়। কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধিত হলেও অসংখ্য ভুঁইফোঁড় অনলাইন গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অনলাইনের অনেকগুলোর কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণও নেই।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে সীমিতসংখ্যক আইপি টিভি অনুমোদন পেয়েছে এবং কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধন পেয়েছে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখনো কোনো সমন্বিত নীতিমালা গড়ে ওঠেনি।
ফলে এই খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং কর্মরত সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এই পরিস্থিতিতে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকারের কাছে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ, নিয়োগ ও ছুটির নীতিমালা তৈরি এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমকেও সহায়তার আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল যুগে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যম মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে। তাই এই খাতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।