ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সবচেয়ে তীব্র চিত্র দেখা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুরের অধিকাংশ পাম্পে অকটেন বিক্রি বন্ধ, সীমিত পরিসরে শুধুমাত্র ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিজয় সরণি, আসাদগেট ও মিরপুরের বিভিন্ন পাম্পেও সকাল থেকেই দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট সময়ের আগে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ক্রুড অয়েলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত এক মাসে ৩১ শতাংশ ও এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল ও এলএনজি আমদানি করে, তাই দেশীয় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
খুলনা, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পাম্প বন্ধ রাখা বা সীমিত সরবরাহের কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে উত্তেজিত জনতা পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। দিনাজপুরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু ঘটেছে।
পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুত করায় চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অরাজকতা আরও বাড়বে এবং জনভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।