বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কের হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন কৃষকেরা। কেউ সেচযন্ত্র কাঁধে নিয়ে, কেউ আবার মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন সামান্য তেলের আশায়।
মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল বারী জানান, আশপাশের কোনো ডিপো বা ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেছে এবং জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
একই এলাকার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, সেচ না দিতে পারায় পটল, মরিচ ও বোরো ধানের খেত শুকিয়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অনেক ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, তেল নিতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আসতে হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এক কৃষককে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে অল্প সময়ই সেচ চালানো সম্ভব।
কৃষক বাবলু হোসেন বলেন, ১৩ কিলোমিটার দূর থেকে এসে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন, যা দিয়ে কয়েক কাঠা জমিও ঠিকভাবে সেচ দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না আসায় সীমিত বরাদ্দের মধ্যেই তেল সরবরাহ করতে হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি কার্ড ও প্রত্যয়নপত্র যাচাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রাকিব হোসেন বলেন, বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত সরবরাহের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।