স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কয়েকজন যুবককে সন্দেহজনকভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় রাজু নামে এক যুবকের সন্দেহ হয়। পরে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে তাঁদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন। এ সময় আটক ব্যক্তিদের একজন রাজুকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাজু কৌশলে পিস্তলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পাঁচজনকে আটক করেন।
আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে আটক ব্যক্তিদের তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁদের তালতলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের আলতু খানের ছেলে মো. জিহাদ খান (৩৫), বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াবুনিয়া গ্রামের মো. মোর্শেদের ছেলে মো. হৃদয় মোল্লা (২৫), একই এলাকার শাহ আলম মল্লিকের ছেলে জামাল (২৭), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫) এবং তালতলী উপজেলার ৪ নম্বর শারিকখালী ইউনিয়নের লিটন শিকদারের ছেলে লিমন শিকদার (২৮)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা অস্ত্রসহ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অস্ত্র বহনের কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় আনা হয়েছে। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং তাঁরা কী উদ্দেশ্যে এলাকায় এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পিস্তলটির উৎস, তাঁদের এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।