মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেয়। পরে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসে গঠিত মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অস্থায়ী এ সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধের সার্বিক নেতৃত্ব দেয়।
সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা, যারা মুক্তিবাহিনী নামে সংগঠিত হয়। তারা গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাদ্য ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ যুদ্ধের প্রাথমিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাম থেকে শহর; সবখানেই গড়ে ওঠে প্রতিরোধ।
নারীদের অবদানও ছিল অনস্বীকার্য। তারা শুধু নির্যাতনের শিকারই হননি, বরং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ, গুপ্তচরবৃত্তি, সেবাদান ও আশ্রয় প্রদানের মতো নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে স্বীকৃত এই নারীরা স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অবিচ্ছেদ্য শক্তি।
মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমর্থন আসে। বিশেষ করে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, আশ্রয় এবং শেষপর্যায়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জনে সহায়তা করে।
দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এ বিজয়ের পেছনে রয়েছে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ এবং লাখো মানুষের সংগ্রাম।