সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমার যদি সুযোগ থাকতো, আমি তেলটা নিয়ে নিতাম। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষকেও খুশি রাখতে চাই।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “দুঃখজনকভাবে, মার্কিন জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। বিষয়টি যদি আমার ওপর নির্ভর করতো, আমি তেল নিয়েই রাখতাম, এতে প্রচুর অর্থ আসতো। পাশাপাশি আমি ইরানের জনগণের যত্নও তাদের বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালোভাবে নিতাম।”
যে সব মানুষ ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের ‘বোকা’ আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিপক্ষে।
ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ সাধারণত বছরের পর বছর চলে। আমরা সেখানে ৩৪ দিন আছি, আর ৩৪ দিনেই একটি শক্তিশালী দেশকে ধ্বংস করেছি।”
✦ হরমুজ প্রণালি ও হুঁশিয়ারি:
ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “তারা হয়তো এখনই হার মানতে চাইছে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানতেই হবে। না হলে কোনো সেতু থাকবে না, বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—কিছুই থাকবে না।”
যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি “চিন্তিত নন” এবং যোগ করেন, “যুদ্ধাপরাধ কী জানেন? পারমাণবিক অস্ত্র রাখা। একটি অসুস্থ দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা—এটাই যুদ্ধাপরাধ।”
✦ জনমত ও সমর্থন হারানো:
সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে—এমনটি বিশ্বাস করেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।
জরিপ অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি আগেই যে ব্যাপক অনাস্থা ছিল, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা আরও বেড়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি কোনো না কোনোভাবে এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, যা পূর্ববর্তী জরিপের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে, বিরোধিতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে, এর মধ্যে জোরালো বিরোধিতার হার ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র: পলিটিকো, সিএনএন