হরমুজ প্রণালি বর্তমানে দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তি এই অঞ্চলে ট্যাংকারে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং টোল বা মাশুল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি কার্যকর।’
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও, নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’ তবে কয়েকদিন আগে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক খোলার কথা জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধের মূল লক্ষ্য না হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এখন সামরিক শক্তির বদলে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার কৌশলে মনোযোগ দিয়েছে। প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করে ইরান দৈনিক কোটি কোটি ডলার আয় করছে। রাশিয়া ও চীনের সহযোগিতায় ইরান এই নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করছে।
প্রতিদিন প্রণালির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ করা হয়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০–২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।
বিশ্লেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন প্রোগ্রাম পুনরায় শক্তিশালী করতে পারবে। মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করেছেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরনো কৌশল আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস